cellphonetower-580-75-970-80

►►► পোস্ট পরিচিতি >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► আজকের পোস্টে ফোনের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে যেসব ফিচার দেয়া থাকে সেগুলো বুঝানো হবে। এছাড়া নিজের জানার ও বোঝার উপর ভিত্তি করে পোস্টটি লেখা তাই অনেকেরই বিভিন্ন ব্যপারে দ্বিমত থাকতে পারে। সুতরাং, যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বিশেষ করে ফোন কিনার আগে নিজে অন্য ভাবেও কনফার্ম হয়ে নিবেন। আপনার কোন সিদ্ধান্তের জন্য টেকবার্কস দায়ী না। .

==========xXx========== .
.
►►► Network >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে সধারনত ফোন কোন ধরনের নেটওয়ার্ক Generation এর কোন Technology এর কত Band এর নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করবে তা লেখা থাকে।
==========xXx==========
.
.
►►► Generation >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► জেনারেশন মানে প্রজন্ম আর এটা এর প্রথম অক্ষর G (জি) দিয়ে বুঝায়। যেমন নেটওয়ার্কের জেনারেশনগুলো হল 1G, 2G, 3G, 4G. এই জেনারেশন সাধারনত IMT (International Mobile Telecommunications) অনুযায়ী প্রায় প্রতি ১০ বছর পর পর নির্ধারণ করে। যেমন 1G 1982 সালে তৈরি হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৪০ বছরে 4G পর্যন্ত এসছে। এই IMT ১০ বছর পর পর নতুন ডেভেলপ হওয়া নেটওয়ার্ক টেকনোলজির উপর নির্ভর করে একটা স্পীড নির্ধারণ করে, যে স্পীডের উপরে যেসব নেটওয়ার্ক স্পীড দিতে পারবে সেগুলো সেই জেনারেশনে পরবে। এছাড়া নতুন জেনারেশন পুরাতন জেনারেশনের সাথে মানানসই হয় না আর কিছু নতুন ব্যান্ড ও যুক্ত হয়। যদিও প্রধান জেনারেশন ৪ টি তবে প্রতি জেনারেশনের স্পীড পার্থক্য অনেক বেশী এবং এক জেনারেশনেই অনেক স্পীডের ডেভেলপড নেটওয়ার্ক থাকায় এগুলোকে আবার জেনারেশনের ভার্সন হিসেবে ডাকা হয়। যেমন 2.5G, 3.5G. 3.75G এমন।
==========xXx==========
.
.
►►► Band >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► সবাই নিশ্চয়ই জানি যে আমরা যেসব শব্দ শুনি তা থেকে শুরু করে নেটওয়ার্ক সহ সবই আসলে বাতাসে ঢেউ তৈরি করে সামনে চলে। অনেকটা পানিতে ঢেউ এর মতই তবে আরও অনেক সূক্ষ্ম। ব্যান্ড হল নেটওয়ার্কটা বাতাসে চলার সময় এর frequency মানে সেকেন্ডে কতটা পূর্ণ ঢেউ তৈরি করে সেটা। এগুলো 750MHz, 850MHz, 1800MHz, 1900MHz এভাবে লেখা থাকে। উদাহরন স্বরূপ 850MHz মানে এই নেটওয়ার্কের তরঙ্গটি 850 Mega মানে 850×1000000 = 850000000 টি পূর্ণ ঢেউ তৈরি করে চলে (মেগা মানে ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ) । আমাদের দেশের নেটওয়ার্ক অপারেটররা প্রায় সবাই 900MHz এবং 1800MHz নেটওয়ার্ক ব্যান্ডই ব্যবহার করে। তাই দেশের বাহির থেকে ফোন কিনলে এই ব্যান্ড সাপোর্ট আছে কিনা দেখে কিনবেন (অবশ্য এটা থাকেই)। জেনারেশন পরিবর্তন হলে নতুন ব্যান্ডের নেটওয়ার্ক যোগ হয় যেমন ২জি ৮৫০, ৯০০,১৮০০,আর ১৯০০ ব্যান্ডে কাজ করে কিন্তু ৩জি এগুলো ছাড়াও ৮০০,২১০০ ব্যান্ডেও কাজ করে আবার ৪জি আগের গুলো ছাড়াও ৭০০, ২৬০০ ব্যান্ডেও কাজ করে।
==========xXx==========
.
.
►►► Technology >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► মোবাইল নেটওয়ার্ক টেকনোলজি অনেক রকমের আছে আর নিচে শুধু আমাদের দেশে ব্যবহিত হয় বা সামনে হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন গুলোর সম্পর্কে হালকা ধারনা দেয়া হল। এখানে ব্যবহিত ডাটা স্পীড গুলো অধিকাংশই থিওরিটিকেল তাই বাস্তবের স্পীড অনেক কম হবে। বিভিন্ন জেনারেশনের নেটওয়ার্ক টেকনোলজি গুলো নিচে জানানো হল।
.
►► 1G Network >
=========================
>> ১৯৮০-৮২ সালে প্রথম বের হওয়া এই টেকনোলজি সম্পর্কে এখন না জানলেও চলবে কারন কোন ফোনেই এটা ব্যবহার করা হয় না।
.
►► 2G Network >
=========================
>> এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক এটি। আমাদের দেশে শুরু থকেই এটি ব্যবহার হয়ে আসছে এবং এখনো হচ্ছে। 384kbps(Kilo Bit Per Second মানে প্রতি সেকেন্ডে ৩৮৪ কিলোবিট ডাটা আদান প্রদান করতে পারে) এর নিচের স্পীড সম্পন্ন নেটওয়ার্ক টেকনোলজি 2G হিসেবে বিবেচিত হয়। এটা দিয়ে সাধারন ভয়েস কল বা টেক্সট মেসেজ, এমএমএস এসব পাঠানো আর কম স্পীডের ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। এর স্পীড অনেক কম হওয়ায় একি সাথে ইন্টারনেট এবং ভয়েস কল চালাতে পারে না। মানে ফোনে কথা বলার সময় ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাবে যা অনেক প্রবলেম করে বিশেষত ডাউনলোডের ক্ষেত্রে। এর টেকনোলজি গুলো হল।
► CDMA (Code Division Multiple Access) > আমাদের দেশের Citycell কোম্পানি এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। এই ধরনের নেটওয়ার্কে সিম থাকে না এবং মোবাইল ফোনেই আইডেন্টিটি ফিক্স করে দেয়া হয়।
► TDMA (Time Divission Multiple Access) > এটি সবচেয়ে কমন ২জি টেকনোলজি।
► GSM (Global System for Mobile) > এটা হল একটা মোবাইল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম যার উপর নির্ভর করে অনেক 2G নেটওয়ার্ক টেকনোলজি ডেভেলপ হয়েছে। Citycell ছাড়া আমাদের দেশের সব নেটওয়ার্ক অপারেটরই এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। এটি মুলত TDMA নির্ভর টেকনোলজি।

►► 2.5G >
—————
► GPRS (G) (General Package Radio Service) > GSM এর চেয়ে একটু উন্নত এবং বেশী স্পীড দিতে সক্ষম এটি। এর স্পীড 50 kbps এর মত হয়। সব ২জি সাপোর্টেড ফোনেই এবং নেটওয়ার্ক অপারেটরেই এটার সাপোর্ট দেয়া থাকে। এটা GSM টেকনোলজি নির্ভর।
► CDMA One > CDMA টেকনোলজির নেটওয়ার্ক এটি যা 144kbps পর্যন্ত স্পীড দিতে সক্ষম।

►► 2.75G >
—————
► EDGE (E)(Enhanced Data rate for Gsm Evolution)> GPRS এর আরও উন্নত এবং ৩গুন বেশী স্পীড দেয়া নেটওয়ার্ক ভার্সন এটি। এর স্পীড 250kbps এর মত হয়। এটিও প্রায় সব ২জি নেটওয়ার্ক অপারেটর এবং সব মোবাইলেই দেয়া থাকে। এটা GSM টেকনোলজি নির্ভর।
► CDMA 2000 1xRTT > CDMA One এর আপডেটেড ভার্সন এটি এবং 153kbps এর মত স্পীড দেয়।
.
►► 3G Network >
=========================
>> আমদের দেশের নতুন চালু হওয়া এবং বর্তমানে আলোড়ন তোলা নেটওয়ার্ক এটি। মোবাইল স্থির বা হাতে থাকা অবস্থায় সর্ব নিন্ম 2mbps এবং দ্রুত চলমান অবস্থায় 384kbps এর উপরে স্পীড দিতে পারে এমন নেটওয়ার্ক টেকনোলজি গুলোকেই এই তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে ধরা হয়। এর স্পীড বেশী থাকায় কল এবং ইন্টারনেট একই সাথে চালানো যায়। আর অনেক ডাটা ট্রান্সফার লাগে এমন সার্ভিস যেমন মোবাইল টিভি, ভিডিও কল, বাফারিং (আটকে যাওয়া) ছাড়া ভিডিও স্ট্রিমিংও (ডাউনলোড না করে সরাসরি ইন্টারনেট থেকেই চালানো) করা যায়। আমাদের দেশে নতুন মোবাইল কিনলে ৩জি আছে কিনা অবশ্যই চেক করে নিবেন। এর টেকনোলজিগুলো হল…
► UMTS (Universal Mobile Telecommunication System) > উন্নত টেকনোলজি দিয়ে GSM কে অপসারন করে 3G নেটওয়ার্কের সূচনা করেছে এই নেটওয়ার্ক সিস্টেম। এর উপর নির্ভর করে অনেক 3G নেটওয়ার্ক টেকনোলজি ডেভেলপ করেছে।
► WCDMA (3G)(Wideband Code Division Multiple Access)> UMTS নির্ভর এই নেটওয়ার্কটি ৩জি এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী ব্যবহিত হয়। এর স্পীড 384kbps.
► CDMA2000 EV-DO (EVolution Data Only) > CDMA 2000 1xRTT এর আরও উন্নত ভার্সন এটি যা 2mbps পর্যন্ত স্পীড দিতে সক্ষম। এটি আসলে CDMA এবং TDMA দুই টেকনোলজিকেই একসাথে ব্যবহার করে।

►► 3.5G >
—————
► HSDPA (High Speed Downlink Packet Access) > WCDMA এর চেয়ে বেশী ডাউনলোড স্পীড সম্পন্ন নেটওয়ার্ক টেকনোলজি এটি। এর ডাউনলোড স্পীড 42mbps এর মত।
► HSUPA (High Speed Uplink Packet Access) > 5.76mbps WCDMA এর চেয়ে বেশী আপলোড স্পীড সম্পন্ন নেটওয়ার্ক টেকনোলজি এটি। এর আপলোড স্পীড 5.7mbps এর মত।
► HSPA (H)(High Speed Packet Access)= 42mb HSDPA এর ডাউনলোড স্পীড আর HSUPA এর আপলোড স্পীডের টেকনোলজিকে একসাথে করে তৈরি হয়েছে এই নেটওয়ার্ক টেকনোলজি। এর স্পীড 42mbps এর মত।

►► 3.75G
—————
► HSPA+ (H+) > HSPA এর আরও উন্নত ভার্সনের টেকনোলজি এটি। এর স্পীড 340mbps থেকে 672mbps পর্যন্তও হয়।.

►► 3.9G (Pre 4G)
—————
► LTE (Long Term Evolution) > এই নেটওয়ার্ক 3G এর চেয়ে এত বেশী স্পীডের যে সবাই একে 4G হিসেই বিবেচনা করত। এবং এখনো নেটওয়ার্ক অপারেটর এবং মোবাইল কোম্পানি 4G নামে প্রচার করে। তবে 4G এর স্ট্যান্ডার্ড যখন ঠিক হয় তখন দেখা যায় তা এর স্পীড এর চেয়ে বেশী তাই একে পরে 3.9G বা Pre 4G ও বলা হয়।
► WiMAX > এটি LTE থেকে আলাদা টেকনোলজির এবং এটাকেও প্রথমে 4G ধরা হলেও পরে 3.9G হিসেবে ধরা হয়েছে।
► UMB (Ultra Mobile Broadband) > CDMA 2000 EVDO এর চেয়ে আরও আপডেটেড CDMA নির্ভর এই টেকনোলজি 4G তৈরির লক্ষ নিয়ে নামলেও মোবাইল অপারেটরদের আগ্রহ না থাকায় এর ডেভেলপার কোম্পানি এই প্রোজেক্ট বাদ দিয়ে LTE এর ডেভেলপমেন্ট শুরু করে ফলে CDMA এর যাত্রার সমাপ্তি হয়।
.
►► 4G Network >
========================
>> যেসব নেটওয়ার্ক টেকনোলজি 1gbps এর উপরে স্পীড দিতে পারে সেগুলোকে 4G জেনারেশনের ধরা হয়। এর স্পীড এতই যে HD ভিডিও ও বাফারিং ছাড়া স্ট্রিমিং করে দেখা যায়। আমাদের দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটররা এখনো এই সার্ভিস শুরু করেনি তবে করতে খুব বেশী দেরী হবে না তাই ফোন কিনলে এটা সহ কিনলে পরে সুবিধা পেতে পারেন।
► WiMAX Release 2 > এটি WiMAX এর উন্নত ভার্সন এবং 1gbps স্পীড দিতে সক্ষম। এটা Wireless MAN Advanced নামেও পরিচিত।
► LTE A > এটি LTE এর উন্নত ভার্সন এবং 1gbps স্পীড দিতে সক্ষম। এটি LTE Advanced নামেও পরিচিত।
==========xXx==========
.
.
►►► বিশেষ সতর্কতা >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► পোস্টটি সম্পূর্ণরূপে ” টেকবার্কস” এর নিজস্ব পোস্ট। পোস্ট লিংক শেয়ার করতে পারেন তবে অনুমতি এবং কার্টেসি ছাড়া কপি করবেন না। আপনি অন্য কোথাও এই পোস্ট দেখে থাকলে তা আমার পোস্টেরই কপি মাত্র।
==========xXx==========

(6)

ফেসবুক থেকে কমেন্ট করুন

আরও কিছু বার্কস

>> বার্কটি শেয়ার করুন:

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*