display-screen-for-samsung-galaxy-s4-Lcd-complete-with-digitizer-assembly-combo

►►► পোস্ট পরিচিতি >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► বর্তমানে মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত স্ক্রীন ডিসপ্লে সম্পর্কে বিস্তারিত এই পোস্টে জানানো হবে। মানে ডিসপ্লের ধরন ও সুবিধা, অসুবিধা।
.
.
►►► Display >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► যদিও ডিসপ্লে অনেক ধরনের আছে তবে ফোনে বর্তমানে ২ ধরনের ডিসপ্লে ব্যবহৃত হয়। যেমন LCD এবং LED. আর এগুলোরই বিভিন্ন মডিফাই করা ডিসপ্লের নাম স্পেসিফিকেশনে লেখা থাকে।
.
►► LCD (Liquid Crystal Display) >
========================
► এই ধরনের স্ক্রীনের ইমেজ কোয়ালিটি LED থেকে খারাপ তবে LED থেকে চার্জ যথেষ্ট কম খরচ করে, মোটা হয় এবং বানাতে খরচ কম হয়। এর উপর নির্ভর করে তৈরি কয়েক ধরনের ডিসপ্লে সম্পর্কে নিচে জানানো হল।
.
► TFT (Thin Film Transistor) > তুলনামুলকভাবে দাম সবচেয়ে কম,নরমাল LCD থেকে উজ্জ্বলতা বেশী এবং চার্জ বেশী খরচ করে কিন্তু LED থেকে উজ্জ্বলতা কম এবং চার্জ কম খরচ করে। সাইড থেকে ভাল দেখায় না, নরমাল LCD থেকে ভাল ইমেজ কোয়ালিটি। এর আবার ৪ ধরনের ডিসপ্লে থাকলেও বর্তমান ফোনে দুই ধরনেরই বেশী ব্যবহিত হয়।
> LTPS (Low Temperature Polly Silicon) > LCD ধরনের TFT এর সংস্করন এটি। কম চার্জে অধিক পিক্সেল ঘনত্ব দিতে পারে। এমনকি পিক্সেল ঘনত্বের জন্য নামকরা IPS নির্ভর Retina Display থেকেও বেশী ঘনত্ব দিতে পারে বলে অধিক পিক্সেলের সব ফোনেই বর্তমানে এটা ব্যবহার করতে দেখা যায়।
> a-Si (amorphous Silicon) > LTPS এর চেয়ে খারাপ কোয়ালিটির, স্লো এবং পিক্সেল ঘনত্ব কম, তাই এখন ফোনে কম ব্যবহৃত হয়।
.
► IPS (In Plane Switching) > TFT থেকে ভাল কোয়ালিটির, ব্যাটারি খরচ TFT থেকে কম আর দাম বেশী, সাইড থেকে দেখলে TFT থেকে ভাল দেখায়।
.
► Nova > LG কোম্পানির তৈরি,LCD নির্ভর এই ডিসপ্লেটি সবচেয়ে বেশী উজ্জ্বল, সূর্যের আলোতে সব চেয়ে ভাল দেখায়, চার্জ তুলনামুলকভাবে অনেক কম খরচ করে, ১৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত সাইড থেকে ক্লিয়ার দেখা যায়।
.
► Super LCD > Sony এর তৈরি,TFT নির্ভর এই ডিসপ্লে নরমাল LCD এর চেয়ে ক্লিয়ার কালার দেয় এবং আলোতে দেখতে অসুবিধা হয় না। IPS সহ অন্য সব LCD থেকে যথেষ্ট ভাল কোয়ালিটির। LED এবং অন্য LCD থেকে চার্জ কম খরছ করে কিন্তু LED থেকে কম উজ্জ্বল, কম ক্লিয়ার এবং কম কালার। ১৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত সাইড থেকে ক্লিয়ার দেখা যায়।
.
► Retina Display > এটা ডিসপ্লের একটা ধরন। সাধারনত ৩০০ এর বেশী পিক্সেল ডেনসিটি সম্পন্ন IPS ডিসপ্লেকে Retina ডিসপ্লে বলে। এমন ডেনসিটি থাকলে খালি চোখে নরমাল দূরত্ব থেকে এর পিক্সেল আলাদা করে বুঝা যায় না তাই একে Apple কোম্পানি এই নাম দিয়েছে। অবশ্য এখন অনেক ডিসপ্লেই IPS এর চেয়ে বেশী ডেনসিটি দিতে পারে যেমন LTPS. এমন IPS ডিসপ্লে আগে অ্যান্ড্রোয়েডে ব্যবহৃত হতে দেখা যেত না কারন অ্যান্ড্রোয়েডের জন্য নং ১ অবস্থানের কোম্পানি Samsung ই এটি তৈরি করে কিন্তু শুধু iphone কোম্পানির Apple এর জন্য। তবে ইদানীং অ্যান্ড্রোয়েডে এর ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
.
► Triluminos Display > sony কে এই ধরনের ডিসপ্লে ব্যবহার করতে দেখা যায়। এটা কালার রেঞ্জ বাড়ায় ফলে রং গুলো অনেকটা বাস্তবের মত লাগে। যেমন একই রকমের গায়ের রং সম্পন্ন মানুষের গায়ের রং পর্যন্ত আলাদা করে দেখাতে পারে।
.
.
►► LED (Light Emitting Diode) >
========================
► এই স্ক্রীন নিজেই জ্বলে আলো এবং কালার তৈরি করে তাই LCD ধরনের ডিসপ্লেগুলোর থেকে উজ্জ্বল হয়। এছাড়া হালকা এবং পাতলা হয়, চার্জ LCD থেকে বেশী খরচ করে, সাইড থেকেও ভাল দেখায় এবং বানাতে খরচ ও কষ্ট বেশী। এর উপর নির্ভর করে তৈরি কয়েক ধরনের ডিসপ্লে সম্পর্কে নিচে জানানো হল।
.
► OLED (Organic Light Emitting Diode) > সাধারন LED এবং সব LCD গুলো থেকে ভাল কোয়ালিটির ইমেজ, স্ক্রীন যথেষ্ট উজ্জ্বল, ভাল রং, দ্রুত কাজ করতে পারে, খরচ কম, পাতলা, সাইড থেকে LED এর চেয়েও ভাল দেখায়। চার্জ LED থেকে কম কিন্তু LCD থেকে বেশী খরচ করে।
.
► AMOLED (Active Matrix Organic Light Emitting Diot) > Samsung এর তৈরি এবং OLED এর উন্নত সংস্করণ হলেও সব সুবিধা একই রকম তবে সূর্যের আলোতে দেখতে অসুবিধা আরও কম হয় এবং চার্জও একটু কম খরচ করে।
.
► Super AMOLED > AMOLED এর উন্নত সংস্করণ তবে এর চেয়েও ভাল মানের, চার্জ আরও কম খায়, স্ক্রীন আরও উজ্জ্বল ,কালার আরও ভাল, আরও দ্রুত কাজ করে এবং ডিসপ্লে এর ভিতরেই সেন্সর থাকে বলে অন্য সব ডিসপ্লে থেকেই পাতলা।
.
► Super AMOLED Plus > Super AMOLED থেকেও ভাল কোয়ালিটির, অনেক বেশী সাব-পিক্সেল থাকায় কালার সব স্ক্রীন থেকে ভাল। সাইড থেকে এমনকি ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্তও ক্লিয়ার দেখা যায়।
.
► Flexible Display > এই ধরনের ডিসপ্লে মুলত OLED এর অন্য রকম উন্নত সংস্করণ। এই ডিসপ্লেগুলো নরম হয় এবং কাগজের মত বাকানো বা ভাজ করা যায়। এটা আনেক আধুনিক টেকনোলজি এবং এখনো তেমন উন্নত না তাই তেমন দেয়া হয় না। তবে এই ডিসপ্লেই হয়তো সামনে বেশী ব্যবহৃত হবে। ভেবে দেখুন ফোনের স্ক্রীনে নরমালি কাজ করছেন কিন্তু মুভি দেখার সময় ভাজ খুলে টিভির মত বড় একটা ডিসপ্লে বানালেন বা ডিসপ্লেটা ঘুরিয়ে ফোনের পিছনে বা সাইডে এনে একপাশে বন্ধুকে কিছু দেখাচ্ছেন আর অন্য পাশে আপনার প্রয়োজনীয় কাজও করছেন।
.
.
►► অতিরিক্ত>
========================
► E-Ink (Electrophoretic Ink) display > যদিও এটি আসলে E-Book রিডারে ব্যবহৃত হয় তবে এখন অ্যান্ড্রোয়েড ফোনেও এর ব্যবহার শুরু হয়েছে তবে মেইন স্ক্রীন হিসেবে না কারন এর সেই ক্ষমতা নেই। এটি আসলে ফোনের পিছনে দেয়া থাকে। মানে ফোনের সামনে পিছনে দুই দিকেই স্ক্রীন এমন। এই স্ক্রীনের আসল সুবিধা হল এটি ব্যবহার না করলে কোন চার্জ খরচ করে না কিন্তু এতে থাকা জিনিস দেখা যায় অনেকটা কাগজে লেখা কালির মত। এটি সাধারনত মিসকল, মেসেজ, আবহাওয়া সংবাদ সহ অন্য জিনিস দেখানোর টার্গেট নিয়ে ফোনে অ্যাড করা হয়েছে। তবে মেইন স্ক্রীনের যে কোন কিছুই এতে দেখাতে পারবেন। যেমন আপনার ID Card এর ছবি তুলে বা নিজের ছবি এই স্ক্রীনে সেট করে রাখলেন যা আপনি না সরানো পর্যন্ত স্ক্রীনে চার্জ খরচ ছাড়াই দেখাতে থাকবে। যা দেখে মনে হবে আপনি কাগজের আইডি কার্ডটাই বা আপনার ছবি ফোনের পিছনে লাগিয়ে রেখেছেন।
.
.
►►► Personal Ranking >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► আমার মতে সব দিক বিবেচনায় প্রথম ধরা চলে Super AMOLED Plus, তারপর IPS(Retina Display Version), তারপর Super AMOLED, তারপর Super LCD, তারপর Nova তারপর IPS, তারপর TFT। Flexyble ডিসপ্লেগুলো এখনো রেগুলার হয়নি টাই রাঙ্কিংয়ে দেয়া হল না। ফোন কিনার সময় দেখে কিনলে ঠকবেন না আশা করি। তবে এটা শুধু একটা সাজেশন, সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নিজেও যাচাই করে দেখুন।
.
.
►►► বিশেষ সতর্কতা >
xxxxxxxxxxxxxxxxxxxx->
► পোস্টটি সম্পূর্ণরূপে ”টেকবার্কস” এর নিজস্ব পোস্ট। পোস্ট লিংক শেয়ার করতে পারেন তবে অনুমতি এবং কার্টেসি ছাড়া কপি করবেন না। আপনি অন্য কোথাও এই পোস্ট দেখে থাকলে তা আমার পোস্টেরই কপি মাত্র।
==========xXx==========

>>> টেকনায়নে টেকবার্কস <<<

(112)

ফেসবুক থেকে কমেন্ট করুন

আরও কিছু বার্কস

>> বার্কটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*