ইয়ারফোন বার্ন

বার্ন কীঃ বার্ন (Burn) অর্থ পোড়ানো। ইয়ারফোন এর ক্ষেত্রে বার্ন কথাটির সঠিক অর্থ হলো নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে দিয়ে ইয়ারফোন বাজানোকেই ইয়ারফোন বার্ন বলে।

বার্ন করা  নিয়ে কেনো পোষ্টঃ

আমি দেখতেছি ইদানিং অনেকেই ভালো সাউন্ড এর জন্য দামী দামী ইয়ারফোন কিনতেছেন। কিন্তু অনেকেই সাউন্ড কোয়ালিটি নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেন না। এত টাকা দিয়ে ইয়ারফোন কিনে পিওর সাউন্ড পাচ্ছেনা সবাই, এই বেপারটা সবাইকে জানানোর জন্যই আমার এই পোষ্ট।

কেনো বার্নঃ
বিখ্যাত ইয়ারফোন, হেডফোন, সাউন্ডবক্স নির্মাতা ব্রান্ডগুলো দাবী করেন যে, তাঁরা যে ক্ষমতা সম্পন্ন (output db) সাউন্ডের ইন্সট্রুমেন্ট তৈরি করে থাকেন সেগুলোর 100% আউটপুট পেতে হলে ইন্সট্রুমেন্টগুলোকে বার্ন করাতে হবে। অর্থাৎ তাঁদের কথা মতে আপনি যদি আপনার ইয়ারফোন, হেডফোন, সাউন্ডবক্স প্রথম পর্যায়ে বার্ন না করে থাকেন ,তাহলে আপনি আপনার ডিভাইসের পিওর আউটপুট টা পাচ্ছেন না।

আমি নিজেও আমার Beats এর Urbeats নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলাম না। বার্ন করার পরে আমি সন্তুষ্ট। কারন আমি প্রায় দুই বছর আগে থেকে ইয়ারফোন বার্ন করে চালাই, এবং আমি মনে করি বেস্ট সাউন্ড পাওয়ার জন্য প্রত্যেকটা ইয়ারফোন বার্ন করা দরকার।

সুবিধাঃ

বার্ন করলে স্বাভাবিকের চেয়ে যে এডভান্টেজ পাবেন তা হলো পিওর বেজ পাবেন, ট্রিবেল টা ভালো আসবে, ভয়েজ টা ক্লিয়ার শুনবেন, ছোট ছোট সাউন্ডগুলো ও নিখুতভাবে শুনতে পারবেন এবং Surrounding সাউন্ডটা অনেক জোস হবে(দামী ইয়ারফোনের ক্ষেত্রে)

কখন বার্ন করতে হয়ঃ

সাউন্ড ডিভাইস কিনে এটার বার্নিং পিরিয়ড পার হওয়ার আগে বার্ন করতে হয়। যে কোন সাউন্ড ডিভাইস এর বার্নিং পিরিয়ড প্রথম 40 ঘন্টা। অর্থাৎ আপনার ইয়ারফোনটি কেনার পর মোট 40 ঘন্টা চালানোর আগেই বার্ন করতে হবে।

কি দিয়ে বার্ন করতে হয়ঃ
আগে বার্ন করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করতে বলা হতো। এখন প্লে স্টোরে বার্ন করার জন্য এপ পাওয়া যায়। অর্থাৎ এখন এন্ড্রয়েড দিয়েও বার্ন করতে পারবেন (আমি এটাই করি)। তবে যেটা দিয়েই বার্ন করেন না কেনো, আনইন্টারাপ্ট ভাবে বার্ন করতে হবে, অর্থাৎ বিরতিহীনভাবে বার্ন করতে হবে।

বিস্তারিতঃ

নিচে কমেন্টে আমি কম্পিউটার দিয়ে বার্ন করার জন্য একটা ফাইল লিংক এবং এন্ড্রয়েড দিয়ে বার্ন করার জন্য একটা প্লেস্টোর এপ লিংক দিচ্ছি (আমার মতে এটাই বেস্ট বার্নার এপ, কারন এই ছোট সাইজের এপটাতে সব রকমের নয়েজ সাউন্ডগুলো যুক্ত আছে)। আমি সাজেস্ট করবো এন্ড্রয়েড দিয়ে বার্ন করতে। কারন কম্পিউটার দিয়ে বার্ন করার জন্য আমি ভালো ফাইলটা খুজে পাইনি। (আমি একটু ইন্টারনেট জাতীয় সমস্যায় আছি আজকের জন্য)

এন্ড্রয়েড বা কম্পিউটার যেটা দিয়েই বার্ন করেন না কেনো ভলিউম 40-50% রাখবেন। কম্পিউটার দিয়ে করলে বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে, তাই সাজেস্ট করবো এন্ড্রয়েড দিয়ে বার্ন করতে।

এখন যেটা জানবেন সেটা জেনে আকাশ থেকে পড়বেন না।
আপনাকে একটানা 40 ঘন্টা বার্ন করতে হবে (এক্সপার্টদের মতে) তাহলে সবথেকে ভালো রেজাল্ট পাবেন। বিরতীহিনভাবে বার্ন করার জন্য আপনার ফোনটি এ্যারোপ্লেন মুডে রাখলে ভালো হয়। তবে আমি একটানা 40 ঘন্টা করে বার্ন করতে পারিনি। ৫ বারে ৮ ঘন্টা করে 40 ঘন্টা কমপ্লিট করেছি। অর্থাৎ পাচ রাত ইয়ারফোন লাগিয়ে ফাইলটা চালিয়ে রাখলেই বার্ন হয়ে যাবে। (বেটার হলো একটানা 40 ঘন্টা করা)

অতি বুদ্ধিমানের মতো ভাইবেন না যে 50% সাউন্ডে যদি 40 ঘন্টা চালাতে হয় তাহলে আমি 100% সাউন্ডে 20 ঘন্টা চালাবো। এরকম বুদ্ধিমান বোকার কাজের ফলাফলের জন্য জন্য পোষ্টদাতা অর্নক সিকদার দায়ী হবেনা।

সাউন্ড 50% এর অল্প কিছু কম হোক সমস্যা নাই, কিন্তু বেশি হয়ে গেলে আপনার ইয়ারফোনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বার্নিং পিরিয়ডে ভুলেও একটানা ইয়ারফোন কানে দিয়ে রাখবেন না। বার্নার ফাইল এর সাউন্ডগুলো মানুষের মস্তিস্কের জন্য ক্ষতিকর।

Oneplus এ বার্নার এপ রিসেন্ট মেনু থেকে লক না করলেও সমস্যা হয়না। তবে সাজেশন থাকবে রিসেন্ট এপ ট্যাস্ক থেকে বার্নার এপটি লক করে দিবেন।

আপনি Xiaomi ইউজার হলে অবশ্যই বার্নার এপটিকে রিসেন্ট মেনুতে লক করে নিবেন। নয়তো Mi Optimization এর কারনে কিছুক্ষন পরে বার্নার ফাইল ফোর্সড ক্লোজ হয়ে যাবে।

আপনার ইয়ারফোনটি যদি অনেকদিন হয়ে কিনেছেন, কিন্তু বার্ন করেননি, বার্নিং পিরিয়ড পার হয়ে গেছে, তাহলে আপনার বার্ন না করাই ভালো।
আর তারপরেও যদি বার্ন করতে চান, অবশ্যই অবশ্যই একটানা 40 ঘন্টা করবেন। কিছু একটু উন্নতি হলে হতেও পারে।

ঠিক এই মুহুর্তে আরেকবার এই পোষ্টের প্রথম প্যারা টা পড়ে আসুন।

লিখাঃ অর্নক শিকদার।

(236)

ফেসবুক থেকে কমেন্ট করুন
>> বার্কটি শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*